ad
ad

Breaking News

Babul Supriyo

“মানুষের ছদ্মবেশে সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছিল!” ঋতব্রতকে নজিরবিহীন আক্রমণ করে মমতার পাশে বাবুল

এই দলবদলের আবহে বাবুলের নিজের অতীত এবং বর্তমান কিছু পদক্ষেপ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কানাঘুষো শুরু হয়েছে

Babul Supriyo TMC MP Slams Rebel MLAs

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বঙ্গে ভোটের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূল কংগ্রেসে কার্যত ধস নেমেছে। দলনেত্রীকে একরকম কোণঠাসা ও হেয় করেই বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী শিবিরের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে বিতর্কের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বিদ্রোহী ৫৮ জন বিধায়ক এবং বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি এই চরম দুর্দিনে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই নিজের আনুগত্য প্রকাশ করেছেন বাবুল। তবে এই দলবদলের আবহে বাবুলের নিজের অতীত এবং বর্তমান কিছু পদক্ষেপ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।

বুধবার রাতে তৃণমূল ভাঙনের খবর স্পষ্ট হতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট লেখেন গায়ক-রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয়। বিদ্রোহী বিধায়কদের নীতিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন: “নিজের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার অবশ্যই আছে। অতীতে আমিও তা করেছি। কিন্তু সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে যদি সততার সঙ্গে সম্মান জানাতে হয়, তবে সবার আগে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত। কারণ, আপনারা সকলেই দলের প্রতীক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং ব্যানারের অধীনে সাধারণ মানুষের ভোটে লড়ে বিধায়ক হয়েছেন।” বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বাবুল। তিনি লেখেন, “দিদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যাঁরা দুর্নীতি, সরকারি তহবিল তছরুপ বা সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের হাত-পা কেটে না ফেলে তিনি (মমতা) নিশ্চয়ই গুরুতর ভুল করেছেন। আজ সেই প্রশ্রয় পাওয়ার কারণেই তাঁদের অনেকেই ওই ‘৬০ জনের’ (বিদ্রোহী ও বিজেপি জোট) তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আর অন্যদের হয় মানুষ ভোটে হারিয়ে দিয়েছে অথবা তাঁরা একে একে জেলে যাচ্ছেন।”

এখানেই শেষ নয়, ঋতব্রতর নাম না করে তাঁকে মানুষের ছদ্মবেশে ‘সাপ’ বলে তোপ দাগেন বাবুল। তিনি লেখেন, “একজন ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছেন! আমি কখনও জানতাম না যে একটি সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের সবার মধ্যে এতদিন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আশা করছি, ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি অন্যান্য অনেক রাজ্যের মতো এই সব সুবিধাবাদীদের নিজেদের দলে নেওয়ার মতো ভুল আর করবে না।” বাবুল সুপ্রিয় যখন এই দুঃসময়ে ‘সুখ পাখি’দের আক্রমণ করে মমতার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন, তখন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ তাঁর নিজের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়ছেন না। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আসানসোল থেকে দু’বারের সাংসদ ও মোদী সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুল। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর পদ্মের মোহ কাটিয়ে তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান এবং ২০২২-এ বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে জিতে তৃণমূলের বিধায়ক হন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে তৃণমূলের তরফে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদও করা হয়।

ব্যক্তিগত আখের গোছাতে বারবার ফুল বদল করা বাবুল এখন তৃণমূলের ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই সমাজমাধ্যমে ‘নৈতিকতার’ পাঠ দিচ্ছেন কেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ। বিশেষ সূত্রের খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার রাশ বিজেপির হাতে যাওয়ার আভাস পেয়েই নাকি সম্প্রতি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে ফোন করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। যদিও এই ‘দলবদলু’ ইমেজ থাকার কারণে গেরুয়া শিবির এখনই বাবুলকে কোনওরকম আমল দিতে চাইছে না বলে খবর। মমতার ক্ষমতা খর্ব হতেই ঋতব্রতদের দল ভাঙানো বা নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে যখন চারিদিকে সমালোচনা হচ্ছে, তখন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তার জবাব দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “প্রেম ও যুদ্ধে সবকিছুই যেমন ন্যায্য, রাজনীতির ক্ষেত্রেও ঠিক ততটাই প্রযোজ্য।”