চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভোট গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে আবারও প্রাসঙ্গিক প্রবীণ বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে দাঁড়িয়ে তিনি যা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, তাতে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এবারের নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে শুরু হতে পারে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’। তবে এই পরিস্থিতিতে তিনি একটি বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, কোনওভাবেই যেন বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে না পারে।
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “আমার কাছে সবথেকে বড় বিষয় হল, বিজেপি যেন কোনওভাবেই ক্ষমতায় না আসে।” তাঁর মতে, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির যে বাইনারি রাজনীতি চলছে, তা ভাঙা এখন সময়ের দাবি। তিনি চান, বামফ্রন্ট এবারের নির্বাচনে এক নির্ণায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করুক। তাঁর আশা, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং আইএসএফ মিলে এবার ভাল ফল করবে। অশোকের আত্মবিশ্বাসী দাবি, “এবার বামেরা ১০-এর বেশি আসন পাবে। নতুন করে বাংলায় বামফ্রন্টের পুনরুত্থান জরুরি।”
এদিকে, গণনার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় অশোক ভট্টাচার্য ঘোড়া কেনাবেচার তত্ত্বে সিলমোহর দিলেন। তাঁর মতে, যেহেতু কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না, তাই সরকার গঠনের জন্য টাকার খেলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি নিশ্চিত যে, বামফ্রন্টের কোনও বিধায়ক জিতলে তাঁকে কেনা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “বামপন্থীদের একটি নীতি ও আদর্শ রয়েছে, যা তৃণমূল বা বিজেপির মতো টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার নয়।”
অশোকের এই বক্তব্য যেন গণনার ঠিক আগের মুহূর্তে বাম শিবিরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক প্রয়াস। তিনি চেয়েছেন মানুষ বাইনারি রাজনীতি থেকে বেরিয়ে তৃতীয় শক্তির দিকে ঝুঁকুক। একদিকে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন নাকি বিজেপির উত্থান, এই টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে অশোক ভট্টাচার্যের ‘তৃতীয় শক্তি’র দাবি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা জানতে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে সোমবারের ফলাফলের দিকে। তবে গণনার ঠিক আগের রাতে প্রবীণ এই নেতার সতর্কবার্তা যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।