চিত্র- এআই নির্মিত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতিটি রেকর্ড সময়ের মধ্যে রক্ষা করল রাজ্যের নতুন সরকার। বুধবার থেকেই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল বহুকাঙ্ক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে টাকা দেওয়ার কাজ। ভোটপর্বে বিজেপির ‘সংকল্পপত্রে’ বাংলার মা-বোনেদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তা বাস্তব রূপ পেল। নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই ঘোষণা করেন যে, প্রথম পর্বেই রাজ্যের ২৮ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি (Direct Benefit Transfer) এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে আমজনতাকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যসচিব, অর্থসচিব-সহ সমস্ত আধিকারিকের সহযোগিতায় এই প্রকল্পের সূচনা হলো। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা সবাই এর সুযোগ পাবেন।” এই প্রকল্পের ফর্ম এখন থেকে অনলাইন এবং অফলাইন, দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে এক অভাবনীয় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁরা নিজেরা এই ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন না, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁদের বাড়িতে সরাসরি সরকারি প্রতিনিধি পাঠানো হবে। ফর্ম ফিলাপ করিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের। আগামী তিন মাস ধরে এই ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া চলবে।” শুধু তাই নয়, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি সাত দিন অন্তর এই তালিকা সংশোধনের কাজ করা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার জন্য কেন নতুন করে ফর্ম বিলি করা হচ্ছে, তার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, “এসএআইআর (SAIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের পরবর্তী সময়ে দেখা গিয়েছে, বহু ভুয়ো ভোটারের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ, এই ধরনের লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। আমরা চাই না কোনও অভারতীয় বা অবৈধ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে সরকারের তথা জনগণের ট্যাক্সের টাকা যাক।”
অন্য দিকে, এদিন এই মেগা প্রকল্প নিয়ে মা-বোনেদের আরও এক মস্ত বড় সুখবর দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছিলেন, আজ বুধবার থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি আজ থেকেই যে অনলাইনের মাধ্যমেও নতুন করে ফর্ম ভরা যাবে, সেই ঘোষণাও করেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, “অনলাইন পোর্টাল চালু হয়ে গিয়েছে। এবার থেকে ফর্ম সঠিকভাবে জমা দেওয়ার ঠিক ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।” সরকারের এই দ্রুত ও আধুনিক পদক্ষেপের ফলে ছাব্বিশের বাংলায় মা-বোনেদের মধ্যে এক বিপুল খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে।