ad
ad

Breaking News

Amkhoi Wood Fossil Park

বায়োডাইভারসিটি হেরিটেজ সাইট: রাজ্যর প্রথম উদ্ভিদ জীবাশ্ম উদ্যান ‘আমখই উড ফসিল পার্ক’

বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের চেয়ে আলাদা নয় আমখই গ্রাম, কিন্তু একে আলাদা করেছে উড ফসিল পার্ক।

Amkhoi Wood Fossil Park: WB’s First Biodiversity Heritage Site

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: নানান মণিমুক্তো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে লালমাটির জেলা বীরভূমে। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের কাছে ইলামবাজারের চৌপাহাড়ী জঙ্গলের ভেতরে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত আমখই গ্রাম। আমখই গ্রামে থাকা আমখই উড ফসিল পার্ক হল রাজ্যর প্রথম উদ্ভিদ জীবাশ্ম উদ্যান। কথাতে আছে ‘বয়সের গাছ পাথর নেই…।’ গাছ কীভাবে পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে তা দেখতে আপনার গন্তব্য হতে পারে আমখই উড ফসিল পার্ক। বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের চেয়ে আলাদা নয় আমখই গ্রাম, কিন্তু একে আলাদা করেছে উড ফসিল পার্ক (Amkhoi Wood Fossil Park)।

পশ্চিমবঙ্গর রাজ্যপাল ও কলকাতা হাই কোর্টের ছাড়পত্রের পরেই রাজ্য জীববৈচিত্র‍্য আইন 2005 অনুযায়ী কমপক্ষে দেড় থেকে ২ কোটি বছরের প্রাচীন উদ্ভিদ জীবাশ্ম সম্মিলিত ইলামবাজারের আমখইয়ের উদ্যানকে ‘বায়োডাইভারসিটি হেরিটেজ সাইট’ হিসাবে ঘোষণা করে রাজ্যর পরিবেশ দফতর। আমখই উড ফসিল পার্কে প্রায় ১৬৫টি ছোট বড়ো উদ্ভিদ জীবাশ্ম রয়েছে।

ইলামবাজারের বনাঞ্চলে ২০১৫ সালে পুকুর খননের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করেন বেশকিছু প্রস্তরীভূত কাঠ, যা পরিচিত উদ্ভিদ জীবাশ্ম হিসাবে। ২ দশক আগে কোপাই নদীর তীরে মহিষদল আর পারুলডাঙা গ্রামেও রেললাইন পাতার কাজ চলার সময় একই রকম প্রস্তরীভূত কাঠ পাওয়া যায়। বীরভূমের লাভপুর, ইলামবাজার ও রাজনগরেও একই রকম প্রস্তরীভূত কাঠ পাওয়া যায় (Amkhoi Wood Fossil Park)।

এসব প্রস্তরীভূত কাঠকে একত্রিত করে ২০১৬ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে রাজ্যর প্রথম ও একমাত্র জীবাশ্ম উদ্যান। এই জীবাশ্ম উদ্যানের গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে ‘বায়োডাইভারসিটি হেরিটেজ’ ঘোষণা করে রাজ্য পরিবেশ দফতর। পাশাপাশি, এই উদ্যানের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য আইন 2005 অনুযায়ী এটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবেও ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও জেলা প্রশাসন আমখই উড ফসিল পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজ করে। রাজ্য বন দফতরের অধীনে আমখই ফসিল পার্ক ইকো ট্যুরিজম প্রোজেক্টে আনুমানিক দেড় কোটি থেকে ২ কোটি বছর পুরোনো প্রস্তরীভূত কাঠ রয়েছে।

ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ইলামবাজার এলাকা ছোটনাগপুর প্রান্তীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ক্রিটেশিয়াস যুগে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ভূ-আন্দোলনের ফলে একসঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার উদ্ভিদ ভূ-অভ্যন্তরে চলে যায় ৷ এরপর ওপরের স্তরের চাপ ও নীচের স্তরের তাপের ফলে চাপা পড়ে যাওয়া গাছপালা ধীরে ধীরে থিতিয়ে যায়৷ এর মধ্যে শিলাস্তরের খনিজ পদার্থ মিশে ক্রমে তা জীবাশ্মে পরিণত হয়। উদ্ভিদের মূল গড়ন একই থাকলেও তা কাঠ থেকে শিলায় পরিণত হয়। কমপক্ষে ১০ হাজার বছরের পুরোনো না হলে তাকে জীবাশ্ম হিসেবে ধরা হয় না। কিন্তু, ইলামবাজারের এই উদ্ভিদ জীবাশ্মগুলি কমপক্ষে দেড় থেকে ২ কোটি বছরের প্রাচীন ও আকারেও বেশ বড়ো। এগুলি অন্তত পক্ষে মায়োসিন যুগের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে (Amkhoi Wood Fossil Park)।

বর্ধমানের আউশগ্রাম, বাঁকুড়ার সোনামুখী, মেদিনীপুরের গড়বেতা, ওডিশার ময়ূরভঞ্জ জেলার মুরাবালা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে কাঠ জীবাশ্মের হদিস পেয়েছেন ভূবিজ্ঞানীরা। যেমন ভাবে তাপ ও চাপে উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ থেকে কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি তৈরি হয়, তেমনই অশ্মীকরণের ফলে উদ্ভিদ জীবাশ্ম পলির স্তর পড়ে এবং আরও কিছু কারণে প্রস্তরীভূত হয়। মাটির নীচের জল পলির স্তর ভেদ করে দ্রবীভূত কঠিন বস্তূর সংস্পর্শে এসে সিলিকা, ক্যালসাইট ও অন্য অজৈব মিনারেলের গঠনকে অপরিবর্তিত রাখে, তখন এই প্রক্রিয়াকে বলে মিনারেলাইজেশন। এই রূপান্তরিত গাছটিকে বলে পেট্রিফাইড উড বা প্রস্তরীভূত কাঠ। দেড় থেকে দু’কোটি বছরের প্রাচীন এই বিস্তৃত জঙ্গলের গাছপালা রাজমহল পাহাড়, ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল থেকে বন্যার মতো কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভেসে এসে রাঢ় অঞ্চলে কাদা-পাথর-বালিতে চাপা পড়ে প্রস্তরীভূত অরণ্যে পরিণত হয়েছে। এর থেকে এই অনুমান করা যায়, যে অঞ্চলে এই জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেখানে এক সময় নদী বয়ে যেত (Amkhoi Wood Fossil Park)।

২০১৭ সালে ফসিল পার্ককে নজরকাড়া পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বন দফতরকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো আমখই গ্রাম ও লাগোয়া জামবুনি-সহ একাধিক গ্রামের ১০ হেক্টর জায়গা নিয়ে এই আমখই উড ফসিল পার্ক গড়ে উঠেছে।