Bangla Jago Desk: রামপুরহাটের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট বার্তায় তিনি বলেন, “যতই হামলা হোক, বাংলা আবার জিতবে। এবারে বীরভূমে ১০ নয়, ১১-শূন্য করতেই হবে।” সভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে অভিষেক জানান, ভোটের আগেই বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে, তবে সেই চক্রান্তের জবাব মানুষ ভোটবাক্সেই দেবে।
মঞ্চে উঠে নিজের সভায় দেরি হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, সকাল থেকেই মানুষ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তার জন্য তিনি দুঃখিত। অভিযোগ করেন, যে হেলিকপ্টারে তাঁর আসার কথা ছিল, নির্বাচন এখনও ঘোষণা না হলেও এসআইআরের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে উড়ানের অনুমতি আটকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে সভা বানচাল করা যায়।
এরপর আক্রমণের সুরে অভিষেক বলেন, “বিজেপির জমিদারদের যত জেদ, তার দশগুণ জেদ আমার।” পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারে ভাড়া করে এসে শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথাও জানান তিনি। দুই ঘণ্টা দেরি হলেও তিনি সভায় পৌঁছেছেন—এই কথাই তুলে ধরেন জেদের উদাহরণ হিসেবে।
এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেক বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অভিনেতা দেব এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিষেকের কটাক্ষ, যাঁরা দেশের গর্ব, তাঁদেরই ‘আনম্যাপড’ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘আনম্যাপ’ করার ডাক দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই প্রসঙ্গে তিনি মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “গণতন্ত্রের নামে এই খেলায় পা দেবেন না। যাঁদের ভয় দেখিয়ে সরাতে চাইছে, তাঁদেরই এবার ভোটে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।” অভিষেকের দাবি, বাংলার মানুষ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো তার জবাব দেবে।
সভায় পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি খাতুনের প্রসঙ্গও টানেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, এই রাজ্যের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রের চাপে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে তৃণমূলের উদ্যোগেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান অভিষেক। পাশাপাশি বলেন, সদ্য সন্তানের জন্ম দেওয়া সোনালির সঙ্গে তিনি রামপুরহাটে দেখা করবেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। অভিযোগ, প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) তাঁর উড়ানের অনুমতি দেয়নি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ফ্লাইং ক্লাবেই আটকে থাকতে হয় তাঁকে। তৃণমূলের দাবি, এটি নিছক প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং বিজেপির পরিকল্পিত বাধা। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রামপুরহাটের সভা থেকে আরও একবার হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “চক্রান্ত যত বাড়বে, মানুষের লড়াই তত শক্ত হবে। গতবারের চেয়েও এবারে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ও ভোট শতাংশ বাড়বে।” পাশাপাশি তিনি জানান, ৩১ তারিখ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হলেও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।
মানুষকে আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা যেন ফর্ম ৬ পূরণ করেন এবং ভয় না পান। তৃণমূল তাঁদের পাশে রয়েছে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মাঠে-ময়দানে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব নেই। আগে যারা সিপিএম করত, তারাই এখন বিজেপিতে—শুধু জার্সি বদলেছে।
শেষে বুথস্তরে লড়াই আরও জোরদার করার ডাক দেন অভিষেক। তিনি বলেন, যেখানে ৫০ ভোটের লিড ছিল, সেখানে ৫১ করতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মহিলাদের নিশানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সভামঞ্চে অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “কেষ্টদা মায়ের কাছে ২৩০ আসনের কথা বলেছে। আমি আরও বাড়িয়ে বলছি—এবার ২৫০ আসন চাই।”



