চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মুর্শিদাবাদে বর্ণাঢ্য রোড শো শেষে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে তিনি দাবি করেন, মুর্শিদাবাদে বর্তমানে বিজেপির ‘তিনটি এজেন্সি’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অভিষেকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই তিন এজেন্সি হল, নির্বাচন কমিশন, অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীরের দল ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম (MIM)। তৃণমূল নেতার অভিযোগ, যারা ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে তারা আসলে বিজেপির ‘দালাল’ হিসেবে কাজ করছে।
এদিন প্রচারের মঞ্চ থেকে নদী ভাঙন সমস্যার সমাধানে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফরাক্কা ও সমশেরগঞ্জের নদী ভাঙনকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার জন্য রাজ্য সরকার বারবার কেন্দ্রকে চিঠি দিলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিষেক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় এলে ফরাক্কা বাঁধের অব্যবহৃত কেন্দ্রীয় জমি উদ্ধারের আন্দোলনে নামবে এবং নদী ভাঙনে ঘরহারা প্রতিটি পরিবারকে সেই জমিতে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।
নির্বাচনী সভায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ নিয়েও সরব হন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আগামী ৪ঠা জুন পুনরায় ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিজেপি আসলে মহিলা বিলের নামে ডিলিমিটেশন বিল আনতে চেয়েছিল, যা তৃণমূল রুখে দিয়েছে। বিজেপি চাইলেই যে দেশ ভাগ করতে পারবে না, তা তৃণমূল কংগ্রেস প্রমাণ করে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।