চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রেমিকের সঙ্গে স্বামীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে স্বামীর হাতে খুন হলেন তরুণী। স্ত্রীকে খুন করার পর থানায় এসে সবটা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন স্বামী। সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর পৌরসভা এলাকার মহিনগরে। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এই খুনের কথা, সঙ্গে ছড়ায় চাঞ্চল্যও।
অভিযোগ, রাতে প্রিয়াঙ্কা ঘুমিয়ে পড়ার পর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন বাপি। ইতিমধ্যে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা করে সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান যে, পরকীয়ার জেরে এই ভয়াবহ পরিণতি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনা একেবারে যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। প্রায় আট বছর আগে ক্যানিংয়ের হেরোভাঙা এলাকার বাসিন্দা বাপি গায়েন প্রতিবেশী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন বলে সূত্রের খবর। বিয়ের পর পার্ক সার্কাসের একটি কারখানায় চাকরি পাওয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে সোনারপুরের মহিনগরে একটি বাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। আর সেখানে পাশের বাড়িতে থাকতেন সুপ্রকাশ দাস ও তাঁর স্ত্রী। দাবি করা হচ্ছে সেই সূত্র ধরেই পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা ও সুপ্রকাশ। কিন্তু বিষয়টি জেনে ফেলে বাপি। তার পরই শুরু হয় সাংসারিক অশান্তি।
এদিকে ভাড়াবাড়ি ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান সুপ্রকাশ। তবে তাতে পরকীয়ার সম্পর্কে কোন বাধা আসেনি। সুপ্রকাশ ও প্রিয়াঙ্কা মাঝেমধ্যেই ধানমাট এলাকার একটি বাড়িতে গিয়ে সময় কাটাতেন বলে খবর পৌঁছয় বাপির কাছে। এসব শুনে রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। সংসারে চরম অশান্তির হতে থাকে। এরপর পরকিয়ার মাঝে ‘কাঁটা’ অর্থাৎ বাপিকে খুন করার পরিকল্পনা করে প্রিয়াঙ্কা ও সুপ্রকাশ। এদিকে এই বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা ও সুপ্রকাশের ফোনালাপ শুনে ফেলে বাপি। তারপর নিজেকে বাঁচাতে স্ত্রীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খুন করার পর পুলিশের কাছে এসে সবটা স্বীকার করে নিজেই এসব কথা বলেন। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে বাপি।