চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বুধবার থেকে উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছেছে বাংলাদেশে। হামলা চালান হচ্ছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ওপর। ভাঙচুর করা হচ্ছে বাড়ি, আওয়ামী লীগের কার্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুজিবর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ি। দিকে দিকে জ্বলছে আগুন। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে বাংলাদেশের কলাকুশলীদের। এই পরিস্থিতিতে এবার সরব বিএনপি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে ইউনুস সরকারের কাছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এদিন এক বিবৃতি জারি করেছে খালেদা জিয়ার দল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে গোটা পরিস্থিতি লক্ষ করছি। হাজারও শহিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার এবং তার দোসরদের উস্কানিমূলক আচরণ, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে অশালীন এবং আপত্তিকর বক্তব্য দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। এরই ফলে গত বুধবার ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত স্বৈরাচারের স্মৃতি, মূর্তি, স্থাপনা ও নামফলকগুলো ভেঙ্গে ফেলার মতো ঘটনা ঘটছে। সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।”
চলতি বছর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। তার আগে রাজনীতির ময়দানে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। শুরু হয়েছে ইস্তেহার বিলি। দেশের এই পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ চেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। এর মাঝেই আওয়ামী লীগের তরফে সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়, লাইভে আসবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি শুনবেন তাঁর সমর্থকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা। এরপরেই নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ে।
বুধবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’ এরপরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, ঢাকায় মুজিবের বাড়ি এবং সুধা সদনেও আগুন ধরানো হয়। বৃহস্পতিবারও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি পরিস্থিতি। গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান নামে খ্যাত বায়তুল আমান ভবনও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।