ad
ad

Breaking News

Bangladesh

ছয় মাস পেরিয়েও কেন গোপন উপদেষ্টাদের সম্পত্তির খতিয়ান? ইউনূস সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা ২০ জন।

un-transparency-delay-advisors-asset-details-not-published

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের জনগণের উদ্দেশে এক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেছিলেন, সরকারি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং তাঁর অধীনে থাকা সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখনো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ উপদেষ্টা তাদের সম্পত্তির হিসাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিয়েছেন। তবুও তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে গেলে ৮ আগস্ট ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন দফতরের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা ২০ জন। এর পাশাপাশি বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে আরও চারজন রয়েছেন।

ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনূস দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। এই ঘোষণা দেশবাসীর মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলে। অর্থনৈতিক ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলেন, যদি সকলের সম্পত্তির পরিসংখ্যান সত্যিই প্রকাশিত হত, তাহলে তা জনগণের বিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

এমনকি উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালাও অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা ও সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের আয় ও সম্পত্তির হিসাব প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জমা দেবেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গত অর্থবছরের হিসাব জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ ফেসবুকেও সেই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবুও কেন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, প্রক্রিয়া এখনও চলমান। বাংলাদেশ উপদেষ্টা পরিষদের একটি সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, শীঘ্রই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ তারা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।