চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুজিব ও তাঁর পরিবারের চিহ্ন মুছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যেখানে জানানো হয় যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে এটি ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ (বিএস-১) নামে পরিচিত হবে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উপসচিব মহম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নামে থাকা সব রাষ্ট্রীয় সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এটি তৈরি করেছিল ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ক্লাবে যুক্ত হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্যাটেলাইটটির মালিকানা বিএসসিএল নামক একটি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়।
শুধু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটই নয়, নাম বদলের এই প্রক্রিয়ায় এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামেও। ঢাকার পূর্বাচলে দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এটি ‘ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড’ (এনসিজে) নামে নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন স্থাপনা, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুজিব ও হাসিনার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ছাত্রাবাসের নাম রাখা হয়েছে ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে, যিনি কুখ্যাত রাজাকার হিসেবে পরিচিত।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি সত্যিই বদলাচ্ছে, নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে ইসলামি রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে? এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই ধারা কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ইতিহাস মুছে ফেলার এই প্রয়াস বিতর্ক সৃষ্টি করেছে দেশের বিভিন্ন মহলে।