চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিএনপির প্রবীণ নেতা তথা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটের তরফে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অলি আহমেদ ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত।
তবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে তেমন সংশয় নেই বলেই দাবি বিএনপি ঘনিষ্ঠ মহলের। কারণ বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই অংশের মিলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলীয় প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঘোষিত বা তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা না হলেও তরুণ বয়সে ভারতের তৎকালীন দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বিহারে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই সময় তিনি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীকালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
বিএনপির দুঃসময়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ফখরুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১৭ বছর আগে তারেক রহমান লন্ডনে চলে যাওয়ার পর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার সময় দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তাঁর এই ভূমিকা স্বীকৃত।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালে সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন ফখরুল। একাধিকবার গ্রেফতার ও জেল-জুলুমের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিএনপির অন্দরে খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা হিসাবেও পরিচিত তিনি।
দলীয় পরিচয়ের বাইরে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও বিএনপির অন্যান্য নেতাদের তুলনায় বেশি বলে দাবি করা হয়। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও আহ্বানের প্রভাব সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশের উপর পড়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।