ad
ad

Breaking News

Khaleda Zia

না ফেরার দেশে খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন।

khaleda-zia-passed-away-2025-former-bangladesh-pm-death-news

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরটি প্রথম নিশ্চিত করেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই শোকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে এবং দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাঁর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অবস্থা ক্রমেই সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছিল। সোমবার থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরলোকে গমন করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর। ১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে আসেন এবং ১৯৮২ সালের ৪ জানুয়ারি বিএনপির সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে তিনি দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে ইতিহাস গড়েন। তিনি দুই মেয়াদে (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।