চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় গণভবনের খাবারের বিল বাবদ এখনও আড়াই কোটিরও বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বকেয়া টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন গণভবনে খাবার সরবরাহ করত ‘হোটেল অবকাশ’। এই হোটেলটি বাংলাদেশের পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ, গণভবনের বকেয়া বিল এখনও মেটাননি কেউ। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সেই দায় নিতে চাইছে না।
শুধু গণভবন নয়, বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যেখানে থাকেন, সেই যমুনা ভবনেও খাবার সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ। সেখানেও কিছু বিল বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও যমুনার ক্ষেত্রে বকেয়া টাকার পরিমাণ তুলনামূলক কম—৩৪ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা।
বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য একাধিকবার হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারকে চিঠি পাঠালেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পর্যটন কর্পোরেশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের সময়ের এই দায় নিতে রাজি নয়।
সূত্রের খবর, গণভবনে খাবার সরবরাহের জন্য হোটেল অবকাশের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট চুক্তি ছিল। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিল পাঠানো হত। কখনও সেই বিল পরিশোধ করা হত, আবার কখনও টাকা বকেয়া থেকে যেত। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সেই বকেয়া আদায় নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ সমস্যায় পড়েছেন।
জানা গিয়েছে, শুধু খাবার সরবরাহ নয়, গণভবনের রান্নাবান্না ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার দায়িত্বও ছিল হোটেল অবকাশের উপর। সে কারণেই বকেয়া টাকার অঙ্ক তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এক আধিকারিকের কথায়, হাসিনার সময়ে গণভবনে প্রায় প্রতিদিনই রাজনৈতিক বৈঠক ও কর্মসূচি হত, যেখানে বহু মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হত।
অন্যদিকে, যমুনা ভবনের সঙ্গে হোটেল অবকাশের চুক্তি শুধু খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত। এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দফতরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মহম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁদের দফতর সাধারণত সব ধরনের বিল নিয়ম মেনেই পরিশোধ করে। তাঁর কথায়, হয়তো কিছু চলমান বিল বাকি রয়েছে, যা একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।