চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশ খুব সহজে ৫ আগস্ট তারিখটি ভুলতে পারবে না। সেই দিন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে যেতে হয়। এরপর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা শুরু হয়। এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে বড় অভিযোগ করলেন ওপার বাংলার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
[আরও পড়ুন: দিঘা মোহনার গ্রোয়িং বাঁধের কাছে ট্রলার ডুবি! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মৎস্যজীবিরা]
তিনি বলেছেন, ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা এই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘রেহানা আর আমি বেঁচে গিয়েছি, ২০-২৫ মিনিটের ব্যবধানে আমরা মৃত্যু থেকে রক্ষা পেয়েছি।’
গত বছর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বিতর্কিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। এর আওতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ সরকারি চাকরি সংরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ ইস্যুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় দেশজুড়ে। এরপর পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়। এই সময়ের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
এবার সেই সময়ের উল্লেখ করে হাসিনা দাবি করেছেন, তাঁকে হত্যার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, কোটালীপাড়ায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ বা ৫ আগস্ট, ২০২৪-এ আমি বেঁচে গিয়েছি আল্লার ইচ্ছায়। আল্লার হাত মাথায় ছিল বলেই বেঁচে গিয়েছি। আল্লার ইচ্ছা না থাকলে আজ পর্যন্ত বেঁচে থাকতাম না।’
[আরও পড়ুন: দেশের স্বাধীনতা দিবসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা]
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যাইহোক, আল্লার রহমতে আমি এখনও বেঁচে আছি, কারণ আল্লা চান আমি অন্য কিছু করি। যদিও আমি কষ্ট পাচ্ছি, আমি আমার দেশ ছাড়া, আমার বাড়ি ছাড়া, সবকিছু পুড়ে গিয়েছে।’ আবেগতাড়িত হয়ে নিজের হাড়হিম অভিজ্ঞতার কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন হাসিনা।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়া, কারণ তিনি বেশ কয়েকটি হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ২০ হাজার জনতার সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় হাসিনাও আহত হয়েছিলেন।
[আরও পড়ুন: শুধু সমালোচনা করলে হবে, দায়িত্ব আমাদেরও আছে]
শেখ হাসিনাকে হত্যার আরেকটি ষড়যন্ত্র ছিল কোটালীপাড়া বোমা, যা তিনি তাঁর অডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন। ২১ জুলাই ২০০০-এ একটি ৭৬ কেজি বোমা উদ্ধার করা হয় এবং দুই দিন পরে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আইডিয়াল কলেজ থেকে একটি ৪০ কেজি বোমা উদ্ধার করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ২২ জুলাই ২০০০ তারিখে একটি সমাবেশে ছিলেন।