চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাসর ঘরের রেশ কাটতে না কাটতেই দাম্পত্যের লড়াই পৌঁছল আদালত পর্যন্ত। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কনে বদলের অভিযোগ তুলে বরকে ঠাঁই নিতে হল জেল হাজতে। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম এলাকা। একপক্ষের দাবি, বিয়ের পিঁড়িতে কনে বদলে দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যপক্ষের পাল্টা তোপ, বিপুল পরিমাণ যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরেই এমন মিথ্যে রটনা (Bride Swap)।
পীরগঞ্জের চন্ডিপুর এলাকার যুবক রায়হান কবিরের পরিবারের দাবি, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে পাত্রী দেখা হয়েছিল। পাত্রপক্ষ জানায়, গত জুলাই মাসে একটি চায়ের দোকানে পাত্রীকে দেখানো হয় এবং রায়হানের তা পছন্দ হয়। ১ আগস্ট ঘটা করে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর ভোরে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।
রায়হানের আত্মীয়দের অভিযোগ, বিয়ের রাতে অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় কনেকে চেনা না গেলেও, বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর দেখা যায় তিনি সেই মেয়ে নন যাকে আগে দেখানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে কনে বদলে তাঁদের সঙ্গে জালিয়াতি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ২ আগস্ট কনেকে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় (Bride Swap)।
অন্যদিকে, কনের বাবা জিয়ারুল হক এই জালিয়াতির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পাত্রপক্ষ বাড়িতে এসেই তাঁর বড় মেয়েকে দেখে পছন্দ করেছিল। বিয়ের আসরে প্রায় সত্তর জন বরযাত্রীর উপস্থিতিতে কনে বদলে দেওয়া অসম্ভব বলে তাঁর অভিমত। জিয়ারুল হকের অভিযোগ, বিয়ের পরদিনই পাত্রপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতেই এখন ‘কনে বদল’-এর গল্প সাজিয়ে তাঁর মেয়েকে অপদস্থ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে গত বছরের শেষ দিকে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়। ২৭ আগস্ট কনের বাবা মামলা করেন রায়হান ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। পাল্টা মামলা করেন রায়হানও। ১৯ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও আদালত রায়হানের জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন (Bride Swap)।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, “বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। উভয় পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। আগে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এখন আদালতের মাধ্যমেই সত্য প্রকাশিত হবে (Bride Swap)।”