চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা যাতে হয় সেইজন্য বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে একক ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, গবেষণার ধরন ও পরিসরের ভিত্তিতে ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। এই প্রকল্প প্রতি বছর চালু থাকবে, যদিও বছরে কতজন গবেষক এই অনুদান পাবেন তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি।
সরকারি সূত্রের দাবি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনও বহু তথ্য অজানা রয়ে গিয়েছে। বিশেষত স্থানীয় ইতিহাস, প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা এবং বহু অপ্রকাশিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। সেইসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়েও পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি বলে মনে করছে সরকার। আন্দোলনের নানা দিক, তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পে তিন ধরনের গবেষণার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা দলীয় গবেষণার ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য ১০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান মিলবে। একক গবেষণার ক্ষেত্রে ন’মাসের জন্য ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং ছ’মাসের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান নির্ধারিত হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে গবেষণার সময়সীমা একবার বাড়ানো যেতে পারে। সরকারি কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক—সকলেই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। গত ৪ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রক এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণার প্রস্তাব আহ্বান করা হবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গবেষণা সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণার অগ্রগতির উপরেও নজর রাখবে সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে গণঅভ্যুত্থানের চাপে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। এরপর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর দেশ চালায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। নতুন সরকার মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসও লিপিবদ্ধ করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।