চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার—সবকিছুরই দাম আকাশছোঁয়া। ঋণের ভারে কার্যত নুয়ে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে দেশটি। বিশেষ করে চিনের কাছ থেকে লাগাতার ঋণ নেওয়ার ফলেই সেই গভীর সংকটে তলিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সেই একই পথে কি এবার হাঁটছে বাংলাদেশ? সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। ক্রমাগত চিনের কাছ থেকে ঋণ নিতে নিতে বাংলাদেশও এখন কার্যত ঋণের চাপে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অনেকটাই ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার সঙ্কটের সঙ্গে তুলনীয়।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ‘এশিয়ান নিউজ পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার মতোই অর্থনৈতিক পথে এগোচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আব্দুর রহমান খান নিজেই ঋণের ফাঁদে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে, যেখানে অর্থ সচিব এম খায়রুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন—এই প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা এমন পরিস্থিতি, যেন একজন রোগা মানুষকে আরও ওজন কমাতে বলা হচ্ছে।”
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বাজেটের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে ঋণ শোধের পেছনে। দেশের বাজেট ব্যয়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম খাতে পরিণত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশেরও বেশি, যা ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ছিল প্রায় ৩৪ শতাংশ।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান। সাম্প্রতিক এক সেমিনারে তিনি জানান, একসময় বেতন ও পেনশনের পর কৃষি ও শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই জায়গা থেকেও সরে আসতে হচ্ছে সরকারকে। এই পরিবর্তনই ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনটিভি-র এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের ‘আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন ২০২৫’-এর উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ১৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে খরচ হচ্ছে রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ঋণ পরিশোধের চাপ দিন দিন আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ ক্রমশ জোরাল হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।