চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। তবে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং বিএনপি একাই ২১২টি আসনে জয়ী হয়েছে। তাদের জোটসঙ্গী জামাতে ইসলামী ও অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। শুক্রবার রাতে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সোমবারের আগে সম্ভব হচ্ছে না।
এই বিলম্বের মূলে রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সুনির্দিষ্ট ধারা এবং বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা। সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব জাতীয় সংসদের স্পিকারের। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছেন এবং তিনি কাউকে শপথ পাঠ করানোর জন্য মনোনীত করেননি। অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে জেলবন্দি। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, পরবর্তী স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত পূর্বতন স্পিকারই পদে বহাল থাকেন, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই সংকট নিরসনে এখন সংবিধানের বিকল্প ধারার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন সেই অনুযায়ী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন। ইউনূস প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে তা-ও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।