চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশের স্কুলের নতুন পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে থাকা ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। মহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরই পাঠ্যবই থেকে জাতির পিতার শিরোপা বাতিল করে দেয়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে বাজারে আসা নতুন নোটেও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রাখা হয়নি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পর্ষদ (এনসিটিবি) নতুন বছরের স্কুল পাঠ্যবই প্রস্তুত করছে। ক্লাস টেনের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে দেখা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি নেই। আগের বইয়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের উল্লেখে পাঁচবার ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি ব্যবহৃত হলেও এবার নতুন বইয়ে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র একবার উল্লেখ আছে, শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় থেকে মুক্তি পান। পরের দিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। তখনকার তরুণ নেতা তোফায়েল আহমেদই শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই তোফায়েল আহমেদ গুরুতর অসুস্থ।
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছে, তারা শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তার জন্মদিন ১৭ মার্চের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে এখনও তাকে জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা আছে এবং সরকারি নির্দেশিকায় শিরোপা বাতিলের কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একই মামলায় সরকার অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে জানিয়েছেন, ‘জয় বাংলা’কেও তারা জাতীয় স্লোগান বলে মনে করে না।
গত বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, স্ট্যাচু ও মুরাল ধ্বংস করা শুরু হয়। ধানমন্ডিতে তার বাড়িও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশের নতুন নোট থেকেও তার ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে।