চিত্র : সংগ্রহিত
Bangla Jago Desk : হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের আমলে মাত্র চার মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) শীর্ষ নেতাসহ ১৪৪ জন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে এবিটির প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানি, রাজাকার গুলাম আজমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমন আজমি এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও।
এই মুক্তিপ্রাপ্ত জঙ্গিরা এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং অসমে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অসম পুলিশ সম্প্রতি ‘অপারেশন প্রঘাত’ চালিয়ে আটজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে দু’জন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে, একজন কেরল থেকে এবং পাঁচজন অসম থেকে ধরা পড়েছে।
ধৃতদের মধ্যে মুর্শিদাবাদের মিনারুল শেখ ও আব্বাস আলি, কেরল থেকে ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক মহম্মদ শাদ রাদি ওরফে শাব শেখ উল্লেখযোগ্য। পুলিশ জানায়, এদের লক্ষ্য ছিল ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র লড়াই চালানো এবং হিন্দুত্ববাদী নেতাদের হত্যা করা।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এবিটি প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানি তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ফারহান ইশরাকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং কেরলে স্লিপার সেল সক্রিয় করেছে। এই সেলের সদস্যরা জঙ্গি কার্যকলাপ বিস্তার, নিয়োগ, অস্ত্র সংগ্রহ এবং অর্থ জোগাড়ের কাজে নিযুক্ত ছিল।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জঙ্গি সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত শীর্ষ জঙ্গিরা ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশেষ করে জেএমবি ও এবিটির নেতারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসে ভারতীয় মাটিতে নাশকতার ছক কষছে।
অসম পুলিশের বিশেষ ডিজি হরমিত সিং এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এই ধৃত জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং কেরল জুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। অপারেশন প্রঘাতের মাধ্যমে এই বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস করা গেছে।”
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। ভারতের গোয়েন্দারা এখন ইউনুস সরকারের আমলে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিদের গতিবিধির ওপর গভীর নজর রাখছে।