সংগৃহীত
Bangla Jago Desk,সৌতিক চক্রবর্তী, বীরভূম: প্রথমবার অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনের সাক্ষী থাকলো বীরভূম। জেলার নেতাদের সংঘবদ্ধ প্রয়াসে বুঝতে দিলেন না অনুব্রতর অনুপস্থিতি। তৃণমূল নেতারা যেন চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন দলের এই জেলার দুই প্রার্থীর ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে। আর সেই প্রয়াসে তৃণমূল প্রার্থীরা পেলেন অভূতপূর্ব সাফল্য। বোলপুর ও বীরভূম দুই কেন্দ্রেই জয়ের ব্যবধানগতবারের তুলনায় দ্বিগুণ করলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। বোলপুর কেন্দ্রে অসিত মাল ৩ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বিজেপি প্রার্থী পিয়া সাহাকে।
[ আরও পড়ুন: ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায়ই হল কাল! টোটো চালকের গলায় ছুরি মেরে চম্পট দুষ্কৃতি]
বোলপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভা থেকেই ব্যাপক লিড পেয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যে অন্যতম নানুর বিধানসভা। শুধুমাত্র এখান থেকেই ৮২ হাজারের বেশি লিড হয়েছে। রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে তিহারে। তার জেলে যাওয়ার পর বীরভূমের দায়িত্ব নিজের কাজে তুলে নেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। কেষ্ট না থাকায় ভোট কিভাবে হবে বা দলের সংগঠন কেমন পথে চলবে সেই নিয়ে দ্বিধা ছিল জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে। কিন্তু সেই সমস্ত কিছুকে ভুল প্রমাণিত করে বলা যেতে পারে উত্থান হয়েছে কাজল শেখের। নির্বাচনের পরের দিনই নিজের গ্রাম পাপুড়িতে বিজয় মিছিল করে তৃণমূল প্রার্থী। ভোটের আগে তিন লক্ষের বেশি ভোটে জিতবেন এমন দাবি করেছিলেন তিনি। ভোট বাক্স খুলতেই কার্যত তা প্রমাণিত হয়েছে।
[ আরও পড়ুন:Sunil Chhetri: শেষ ম্যাচের আগে সুনীল ছেত্রীকে বার্তা দিলেন লুকা মদ্রিচ]
বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে অনুব্রত থাকাকালীন ভিড়ে ঠাসা থাকতো। কিন্তু এখন সেখানে কয়েকজন পুলিশ কর্মী ছাড়া কেউ নেই। একইভাবে বোলপুরের জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে অনুব্রত জমানায় যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যেত তাও এখন নেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর জেলা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পান কাজল শেখ। এছাড়াও বীরভূমের কোর কমিটিতে যুক্ত করা হয় তাকে। তারপরেই বোলপুর লোকসভার নানুর কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোট এই তিন বিধানসভার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র এই তিন জায়গা থেকেই প্রায় ১.৭ লক্ষ লিড পেয়েছে তৃণমূল। অনুব্রত থাকাকালীন ২০১৯ সালে নির্বাচনে অসিত মাল এক লক্ষের কিছু বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে জয়ের ব্যবধান দ্বিগুনেরও বেশি করেছে ঘাসফুল শিবির।