ছবি : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বনগাঁ কী এবারও বিজেপির দখলে থাকবে ? নাকি বিকল্প কোনও প্রার্থীকে লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ বেছে নেবে ? মতুয়া প্রভাবিত এই এলাকায় বিজেপির প্রচারের অস্ত্র সিএএ। তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা সরব, সিএএ-এর মাধ্যমে কিভাবে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজেপির গোষ্ঠীবিরোধও তাঁদের প্রচারে জায়গা পাচ্ছে।যুযুধান দুই শিবিরই রঙিন প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছে।এখন বনগাঁ শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের কাছেই ব্যাটলগ্রাউন্ড হয়ে উঠেছে।
স্বাধীনতার পর বনগাঁ হয়ে ওঠে শরণার্থীও উদ্বাস্তু মানুষের কাছে নিরাপদ আশ্রয়।স্রোতের মত ওপার থেকে আগত সেই জনপ্রবাহই পরবর্তী সময়ে বনগাঁকে দুই পারের মানুষের মেলবন্ধনের আঁতুরঘর করে তোলে।এই মতুয়া প্রভাবিত এলাকার মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনীতির আসর এবার তপ্ত।প্রচারেও তার আঁচ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইছামতীর তীরে থাকা এই শহরের নিজস্ব ইতিহাসও ঐতিহ্যের ধারা রয়েছে। কথিত আছে, ১৮৮২ সালে বনগাঁ মহকুমা নদিয়া জেলা থেকে যশোহর জেলার অন্তর্গত হয়। ১৫ অগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিন বনগাঁ শহর ছিল পাকিস্তানের মধ্যে। তার তিনদিন পরে ১৮ অগস্ট বনগাঁ মহকুমার বনগাঁ ও গাইঘাটা ভারতের ২৪ পরগনা জেলার সঙ্গে যুক্ত হয়।এই সম্পর্কের শিকড়কে সামনে রেখে এখনও সবদলের রাজনীতির স্রোত আবর্তিত হয়।তৃণমূল যখন,পাট্টা বিলি,জাতিগত শংসাপত্র প্রদান বা জমির অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়কে ইস্যু করছে তখন বিজেপি সিএএ ইস্যুকে হাতিয়ার করে বাজার গরম করার চেষ্টায়।সিএএ আসলে উদ্বাস্তু মানুষদের ধোঁকা দেওয়ার ছক,.একথাই প্রচারে তুলে ধরছে তৃণমূল।কীভাবে এই প্রচারকে মোকাবিলা করবে বিজেপি ?তাদের দাবি.বনগাঁর মানুষ শান্তনু ঠাকুরকেই আবার বেছে নেবে।বড় মার্জিনে জয়ী করবে।
অসমের এনআরসি ইস্যুর কথা তুলে ধরে মতুয়াগড়ে বিজেপিকে বিঁধছেন তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিত দাস।মতুয়াদের অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়ার বিভাজনকামী রাজনীতি এবার পর্যুদস্ত হবেই,তোপও দাগছেন তিনি।
এক নজরে বনগাঁ লোকসভার ভোটচিত্র
বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে ৭টি বিধানসভা
কল্যাণী,হরিনঘাটা,বাগদা,বনগাঁ উত্তর
বনগাঁ দক্ষিণ,স্বরূপনগর,গাইঘাটা
লোকসভায় ভোট কেন্দ্র ১৮৯৯
মোট ভোটারের সংখ্যা -১৬,৯৯৭৬৩
পুরুষ ভোটারের সংখ্যা -৮,৭১,৪৬৩
মহিলা ভোটারকের সংখ্যা-৮,২৮,২৭৭
একুশের বিধানসভা ভোটে লোকসভার ৭ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে স্বরূপনগর বাদে বাকি সব আসনে জয়ী হয় বিজেপি।যদি পরে বিশ্বজিত দাস দাবি করেন তিনি বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন।তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে চান।বিশ্বজিত দাস মনে করছেন বিজেপির হয়ে কাজ করা যায় না।সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের ব্যর্থতা ও জনবিচ্ছিন্ন অবস্থা তাঁর কটাক্ষের তালিকায় জায়গা পাচ্ছে।
কেন্দ্রের বঞ্চনা,বাংলাকে খাটো করা,স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত লাগু করা বা অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগই প্রচারের পাদপ্রদীপে জায়গা পাচ্ছে।তাই দিল্লিতে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য তৃণমূলকে জয়ী করার আবেদন নিয়ে মতুয়া থেকে উদ্বাস্তু ,সবমহলের দরবারে যাচ্ছেন বিশ্বজিত দাস।
একনজরে ২০১৯-এর লোকসভার ফলাফল
বিজেপির শান্তনু ঠাকুর পান ৬৮৭,৬২২ ভোট
তৃণমূলের মমতাবালা ঠাকুর ৫,৭৬,০২৮ ভোট
সিপিএমের অলোকেশ দাস ৯০,১২২ ভোট
কংগ্রেসের সৌরভ প্রসাদ পান ২২,৬১৮ভোট
তৃণমূল বলছে,বিজেপি তো অন্তর্কলহেই জেরবার।শাসকদলের খোঁচা, শান্তনু ঠাকুরকে ভোট না দেওয়ার জন্য বিধায়ক অসীম সরকারই আবেদন করছেন,তাহলে কেন বনগাঁর মানুষ কেন তাঁদের ভোট দিতে যাবেন ? ঘরে বাইরে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শান্তনু ঠাকুর আবার জয়ী হবেন,নাকি, তৃণমূল এই উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকায় ঘাসফুল ফোটাবে,উত্তরটা জানার অপেক্ষায় সবমহল।