চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ প্রায় প্রতিদিনই তীব্র হচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ধারাবাহিকভাবে রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে আক্রমণ করছেন। তারই পালটা জবাব দিতে মাঠে নেমেছে সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Slams Suvendu Adhikari)।
মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একাধিক পোস্টে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আনে। দিন-তারিখ উল্লেখ করে তুলে ধরা হয় তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের তালিকা। তৃণমূলের দাবি, এসব বক্তব্য ও আচরণ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের পক্ষে গভীরভাবে ক্ষতিকর।
তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অভিযোগ হল—
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: এক শিখ আধিকারিককে ‘খালিস্তানি’ বলে আখ্যা দিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের দেশপ্রেম ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
১১ মার্চ ২০২৫: প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিম বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হবে।
৩১ জুলাই ২০২৫: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এক সাধারণ নাগরিককে রোহিঙ্গা বলে অপবাদ দিয়ে চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫: ধর্মীয় পরিচয়ের জেরে এক গরিব হকারকে মারধর করা দুষ্কৃতীদের সংবর্ধনা জানান (TMC Slams Suvendu Adhikari)।
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নিজের এলাকায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যারা ধর্ম পরিবর্তনে রাজি এবং হিন্দু–মুসলিম বিভাজন সমর্থন করবেন, তাঁদের জন্যই তিনি কাজ করবেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে কটূক্তি ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন।
তৃণমূলের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক মন্তব্য ও পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বিভাজনের রাজনীতিই বিরোধী শিবিরের মূল অস্ত্র। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলায় জমি শক্ত করতে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরুকরণের পথ বেছে নিচ্ছে। বাঙালিয়ানা ও আঞ্চলিক গৌরবকে খাটো করে তাকে ভিন্ন পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি শাসকদলের (TMC Slams Suvendu Adhikari)।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট যত এগোবে, ততই এই আক্রমণ–পালটা আক্রমণের মাত্রা বাড়বে। তবে শেষ কথা বলবেন রাজ্যের মানুষই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটের বাক্সই চূড়ান্ত রায় দেয়—সেখানে কার বক্তব্য মানুষ গ্রহণ করবে আর কাকে প্রত্যাখ্যান করবে, তারই অপেক্ষা এখন (TMC Slams Suvendu Adhikari)।